ইসলাম শান্তির ধর্ম

ইসলাম শান্তির ধর্ম

ইসলাম শান্তির ধর্ম – শিহাব আহমদ

সহনশীলতা ও সহমর্মীতা ইসলামের বিশেষ গুণ, সৎ কাজে আদেশ এবং অসৎ ও অন্যায় কাজে নিষেধ ইসলামের বিশেষ নীতি, সততা ও খোদা-ভীতির নিরিখে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ইসলামের বিশেষ বৈশিষ্ঠ্য, মানুষে-মানুষে ভেদাভেদের দেয়াল ভেঙ্গে সাম্য ও মৈত্রী প্রতিষ্ঠা ইসলামের শিক্ষা, ওয়াদা পালনের দৃঢ়তা ইসলামের দীক্ষা এবং দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের সমন্বয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ নীতি-পদ্ধতিই ইসলামী জীবন ব্যবস্থা। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর খোলাফায়ে রাশেদীনের যুগ ছিল একটি স্বল্পকালীন সময়ে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ্র মৌলিক নীতির ওপর ভিত্তি করে একটি ইসলামী রাষ্ট্রের মডেল গঠিত হয়েছিল। সেখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সাম্য-মৈত্রী ও ন্যায় বিচারের একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরী হয়েছিল। সে পরিবেশে রাষ্ট্রের সকল নাগরিকের জান-মাল ও ধর্ম-কর্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছিল।

মদীনা সনদ ও হুদায়বিয়ার সন্ধী মুসলমানদের সহনশীলতার অপূর্ব নিদর্শন। অমুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের গীর্জা এবং মন্দিরের পাদ্রী বা পুরোহিতদের সাথে ইসলামের উদারনৈতিক আচরণ ইতিহাসের এক নজীর বিহীন ঘটনা। ইসলামের এসব মৌল নীতির বাস্তবায়ন হলে আজও একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরী হতে পারে যাতে সকল সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান এবং নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হবে। ইসলামে বিশ্বাস, কথা ও কাজ একই সমান্তরালে চলে – তাই এখানে কপটতার কোন স্থান নেই। আধুনিক অনেক সেক্যুলার রাষ্ট্রের সংবিধানে গণতান্ত্রিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতার নীতি সন্নিবেশিত থাকে, কিন্তু এসব নীতির বাস্তব প্রয়োগ খুব কমই হয়ে থাকে। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না।

ইসলামী রাষ্ট্র ধার্মিকতা ও ধর্ম-নিরপেক্ষতা এ উভয়বিধ ক্ষেত্রের মধ্যে এক অপূর্ব সমন্বয় সাধন করেছে। ইসলামে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও সেবা সব নাগরিকের জন্য সমান। সহ-অবস্থানে থেকে এখানে সবাই যেমন নিজ নিজ ধর্ম পালনে সক্ষম, তেমনি বহিঃশত্রুর আক্রমণ থেকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায়ও তারা ঐক্যবদ্ধ। বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্ম-কান্ড, শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জাগতিক সাধারণ উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক বিষয়েও সকল নাগরিক একে অপরের সহযোগি এবং সমান সুবিধা প্রাপ্ত। সততা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ জীবন যাপনই ইসলামী রাষ্ট্রের অন্যতম মুখ্য উদ্দেশ্য।

আমাদের দেশের মুসলমানগণ প্রকৃত ইসলাম চর্চার মাধ্যমে দেশে একটা ইসলামী পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলে ধর্ম নিয়ে হানাহানির সম্ভাবনা থাকত না। কেননা ইসলাম আল্লাহ্ মনোনীত একটি মধ্যমপন্থী ধর্ম – যাতে বাড়াবাড়ির কোন স্থান নেই। আমাদের নাফরমানীর কারণে দেশ ও সমাজ আজ দ্বিধা-বিভক্ত। আমাদের কথায় ও কাজে মিল নেই। আমরা মুসলমান হলেও ইসলামী অনুশাসন পুরোপুরি পালন করি না। একদিকে ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা কিছু পালন করি, অন্যদিকে বেহায়াপনা, অশ্লীলতা, মিথ্যাচার, প্রতারণা ও দুর্নীতিতে আমরা সিদ্ধহস্ত।

পাশ্চাত্যের প্রভাব আমাদের মধ্যে এত বেশী যে, ইসলামকে অবমাননা করার মধ্যে আমরা এক ধরনের আনন্দ পাই। এভাবে আমরা ইসলামের কিছু মানা ও কিছু না-মানার মধ্য দিয়ে যে সুবিধাবাদী জীবন যাপন করি তা প্রকৃত ইসলামী জীবন নয়। বিশ্বাসে, কথায় ও কাজে যখন আমরা এক হতে পারব তখনই সকল প্রতিকূলতা কাটিয়ে ইসলাম আপন সৌন্দর্যে ভাস্বর হয়ে ওঠতে পারবে এবং সমাজে শান্তিময় ইসলামী পরিবেশ গড়ে ওঠবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *